Monday, September 05, 2022

Complete Collection of Live Review Tweets of "A Holy Conspiracy"

 
Have practically stopped blogging
But live tweeting while watching movies in theater was a thing I started some years back and then that stopped for you-know-what.
one pandemic later, #AHolyConspiracy is the first film I saw, first day first show.
below is the compilation of live tweets.

 the sketch below was inspired by something I saw on the way back from the film. 
 
 Proudly displaying the symbol of a doctor, while warding off evil eyes with shoe tied underneath. Why a cry for a sane human mind free of dogma, superstition and non-logic like #AHolyConspiracy is relevant today. Venting out in #sketchbook#sketch a #MovieReview


 
 
 
#AHolyConspiracy
 
 
 
 
First movie in theatre after March 20। #AHolyConspiracy last one was #BankuBaburBandhu
 
#nasiruddinSah is as captivating as always #AHolyConspiracy
 
Difficult not to well up at the sight of #soumitraChatterjee#AHolyConspiracy
 
I could have made this film #AHolyConspiracy
    Feels like i did it

 
Shockingly direct and bold #AHolyConspiracy
 
Seems like I am the only viewer in the hall #AHolyConspiracy --  a first for me
 
I don't know the actor who plays the judge। But he stands shoulder to shoulder with nasiruddin and soumitra #AHolyConspiracy
 
 #AHolyConspiracy may not be one of the most perfectly made films, but it is certainly one of the most perfect films - for today
 
 #AHolyConspiracy is India's cry for sanity. I was the lone audience in the Hall. #SoumitraChatterjee#NasiruddinSah

 
 Screechy seat,damp and dusty hall, kept my mask on to save me from an allergy attack, though I was the only person in the hall -- my experience in। #multiplex after2 yrs #AHolyConspiracy

 
 On the way back after watching #AHolyConspiracy saw a shoe hanging from a doctor's car. Somebody please prescribe doctorbabu to watch the film.


P.S.
 it was a bit annoying to see some absurd reviews about why the cast and creed of the actors and their characters not a perfect match (these reviews appear like an extension of the cast politics by majoritarians to me. Saw a similar one about Panchayat, the web series which is probably the best thing in TV/web media since Malgudi Days) or that it has not been a good enough "court room drama" (was it a court room drama?) etc . Everyone is entitled  to their opinion. and here's mine. The film may have had its weak points. I suppose the script could have been crisper - the back stories could be more more pertinent. The character of Kausik Sen was probably the weakest point ( what was the point of being weird with the female character or blowing hot and cold with Nasiruddin's character? ). But the only thing such nitpicking achieves is to create diversion from the issues this film tried to draw attention to.
 
 To me this film looked like a straightforward  attempt to unearth truth and sanity from the rubble of misinformation and concocted "beliefs". and that's where it succeeds.

Thursday, August 18, 2022

মেয়েদের (?) ভাষা : তিনটি প্রশ্ন


 

মেয়েদের (?) ভাষা : তিনটি প্রশ্ন

 

হ্যাঁ = না

না =  হ্যাঁ

হয়ত = না

আমাদের  দরকার = আমি চাই

সরি = পরে তুমি সরি বলবা
আমার কিছু বলার ছিল  = তোমার নামে  বিচার আছে 

তোমার যা ইচ্ছা  তাই করো  = পরে  দেইখ কি করি 

  আমি আপেসট না= অবশ্যই আমি আপসেট, গাধা  !

 

ওপরের গভীর মনোগ্ৰাহ্য মেয়েদের ভাষা বিশ্লেষণটি হয়তো আপনারা কোনো  হোয়াটস্যাপ ফরওয়ার্ড এর মাধ্যমে পেয়ে থাকবেন। এই ধরেনের আরো অনেক মেয়েদের ভাষা সংক্রান্ত  বিশ্লেষণও হয়তো আপনারা  বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে, হালকা আলাপ আলোচনায়, চায়ের আড্ডায় কৌতুক হিসাবে শুনে বা পড়ে থাকবেন। খেয়াল করে দেখবেন ছেলেদের ভাষা নিয়ে এই ধরণের লোকভাষাতাত্ত্বিক (folklinguistic )  বিশ্লেষণ খুবই বিরল। এই ধরণের কৌতুক ভিত্তিক বিশ্লেষণের তথ্যনির্ভরতা বিচার করার চেষ্টা বৃথা, কারণ এর উদ্যেশ্য সত্য বিতরণ নয়, হাস্যরসের উদ্রেক করা।  কৌতুকের সত্যনির্ভর হওয়ার কোনো দায়  নেই।  তার  একটা উদ্দেশ্য হালকা পরিহাসের মাধ্যমে  মূলত চলতি (ভুল বা ঠিক) ধারণাকে বজায় রাখা,  বহন করা বা তাকে  বৈধতা দেওয়া । প্রায়শই এই  পরিহাসের লক্ষ্য বা বিষয়বস্তু একটা গোটা জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা ধর্ম হয়ে গিয়ে বর্ণবাদী বা লিঙ্গবাদী হাস্যরস  তৈরী হয়ে কিছু সমস্যার স্মৃতি করে। তবে সেই সমস্যা এই প্রবন্ধের আওতার বাইরে।  এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু লোকভাষাতত্ত্ব নয়, বিজ্ঞাননির্ভর ভাষাতত্ত্ব।

 

 

ভাষাতত্ত্বে আগ্রহী পাঠক অথবা নারীবাদী আলোচনায় আগ্রহী পাঠকরা অনেকেই ‘ মেয়েদের ভাষা’ বা ’উপভাষা’ বিষয়ক বৈজ্ঞানিক ভাষাতাত্ত্বিক  আলোচনা পরে থাকবেন। এ বিষয় কয়েকটি লেখা যুগান্তকারী  এবং পথিকৃৎ।  এর মধ্যে ওটো জেসপার্সন এর  প্রামাণ্য বই ১৯২২ সালে প্রকাশিত   ‘Language its Nature, Development and Origin’ এর  ‘The  Woman’ পরিচ্ছেদটি অন্যতম।

 

এই লেখাতে তিনি অন্যান্য বিষয়ের সাথে মেয়েদের ভাষার যে বিশেষ  বৈশিষ্ট্যগুলি  সম্বন্ধে লিখেছেন , তার মধ্যে কয়েকটি  উল্ল্যেখযোগ্য হোলো –

১) চিন্তার দ্রুততা (rapidity)

২) এমন সর্বনাম ব্যবহার করার প্রবনতা, যা শেষ ব্যবহৃত বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

            যেমন ধরুন, আপনি রাম , শ্যাম আর যদুর  গল্প বলতে শুরু করেছেন, এমন সময় বললেন “সে পড়াশুনায় খুব ভালো “  । লোকে ভাববে আপনি যদুর কথা বলছেন, কারণ যদুর নামই আলোচনার শেষে এসেছিলো, কিন্তু আপনি আসলে বলতে চাইছেন যে রাম পড়াশুনায় ভালো।

৩) কোনো কোনো গবেষণায় দেখা গেছে যে মেয়েদের পড়ার গতি, ছেলেদের থেকে অনেক বেশী।

৪) কথায়  অতি গুরুত্ত্ব আরোপ, বা কথা বাড়িয়ে বলা (emphasise )বলার প্রবণতা দেখা যায়।  উদাহরণ হিসাবে তিনি “goodness gracious! “ বা ‘dear me !’ ইত্যাদি “মহিলাসুলভ” (feminne) বিস্ময়সূচক  অভিব্যক্তির ব্যবহারের কথা বলেছেন।

৫) মেয়েরা সাধারণত নিষিদ্ধ শব্দ বা taboo words  এড়িয়ে চলেন, আর অপেক্ষাকৃত কোমল শব্দ (eupheimism ) ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়।

৬) অনেক সময়ই মেয়েরা বাক্য  সম্পূর্ণ করেন না।  এর কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন যে মেয়েরা অনেক সময় কি বলবেন তা না পুরোপুরি ভেবেই কথা  বলতে শুরু করেন। 

 

মেয়েদের কথার ধরন এই প্রকার কেন তারও ব্যাখ্যা এই পরিচ্ছেদে আছে।

যেমন তার একটি কারণ হিসেবে জেসপার্সন শ্রমের বিভাজনের কথা বলেছেন।  পুরুষ ও মহিলাদের কাজের ধরন আলাদা। তাই ভাষার ধরন ও  আলাদা হয়ে যায়।  এছাড়া যেহেতু মেয়েদের শব্দ ভান্ডার কম থাকে তাই তাদের বক্তব্যের তৎপরতাও বেশি। 

 

 

এই আলোচনা পড়লে কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই সামনে এসে দাঁড়ায়।

 

প্রথম প্রশ্ন : পৃথিবীতে তো সব মেয়েরা এক অবস্থানে নেই।  তাহলে দাবাড়ু, গৃহবধূ, লেখক, চাকুরীজীবি, প্রধানমন্ত্রী, শ্রমজীবী,বুদ্ধিজীবী,মহাকাশচারী,জঙ্গি, ডাক্তার,পরিচারিকা  সব মেয়েদের কথার ধরন এক হবে কেন?

দ্বিতীয়ত:  ভাষা অর্জন ও  ব্যবহারের শারীরবৃত্তীয়  ও মনস্তাত্ত্বিক  উপাদানগুলিতে নারী -পুরুষের  কোনো পার্থক্য নাই। এই পার্থক্য না থাকলেও, ঠিক কি কারনে বা মেয়েদের ভাষা পুরুষের ভাষার থেকে আলাদা হচ্ছে?

শেষ প্রশ্ন :  ছেলেদের ভাষা বা উপভাষা বা ‘ the man ‘ নামের কোনো পরিচ্ছেদ, ছেলেদের ভাষা নিয়ে লোকভাষাতাত্ত্বিক কৌতুকের মতোই  এত  দুর্লভ কেন?  ছেলেদের ভাষা নিয়ে কাজ করতে ভাষাতাত্ত্বিকদের বা শখের ভাষা বিশ্লেষনকারীদের  এমন অনীহা কেন?

প্রথম প্রশ্ন :

জেসপার্সন এর লেখায় প্রথম প্রশ্নের বিশেষ কোনো উত্তর নেই। তবে, বিশ্লেষণাত্মক- সংগঠনমূলক  ভাষাতত্বে এ ধরনের কোনো বৈচিত্রের আলোচনা না থাকাই  স্বাভাবিক। কারণ ভাষাতত্ত্বের এই শাখা ভাষার একটি আদর্শকল্প রূপ কল্পনা করে তার আলোচনা করে। যেমন, যখন সাধারণভাবে বাংলাভাষার গঠন, তার ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি  নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তখন বাংলাভাষার বিভিন্ন রূপের মধ্যে কেবল মাত্র একটি রূপেরই আলোচনা হয়, যা হলো মান্য বাংলা ভাষা, অন্য কোনো ভাষার রূপ (যাদের  উপভাষা বলা হয়ে থাকে ), তার আলোচনা উহ্যই  থেকে যায় । অথবা কোনো উপভাষাতাত্ত্বিক মান্য ভাষার সাথে উপভাষার তুলনা করে তাদের বিচ্যুতি বা ভিন্নতা আলোচনা করেন। মেয়েদের ভাষা আলোচনার ক্ষেত্রে  সেই বিশ্লেষণ পদ্ধতি ভাষার গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের সব ভাষাভাষী মেয়েদের ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোগ হয়ে যাচ্ছে। বলা বাহুল্য, এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। এই আলোচনা আদর্শকল্প থেকে আলোচনা একটা অতিসাধারণীকরণ বা স্টিরিওটাইপিং এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা কিছু অপ্রমাণিত চলতি ধারণা  কে বৈধতা দেয়, কিন্তু  কোনো পরীক্ষিত  সত্যের ভিত্তিতে বাস্তবকে ধরতে অক্ষম হয়।

 

 

 মেয়েদের ভাষার বৈশিষ্ঠ নিয়ে আলোচনা বর্ণনামূলক ভাষাতত্ত্বের পরিসরে অনেকবার ই এসেছে।বাংলায় এই বিষয় অনেক আলোচনার মধ্যে অন্যতম সুকুমার সেনের বাংলায় মেয়েদের উপভাষা (Women’s  Dialect in Bengal)। জেসপার্সন এর তুলনায় অধ্যাপক সেনের আলোচনায় মেয়েদের  ভাষার বিশ্লেষণে সাধারণীকরণের সমস্যা, মেয়েদের ভাষায় অন্যান্য সমাজিক উপাদানের প্রভাব ও তার ফলে সৃষ্ঠ বৈচিত্রের বিষয় সচেতনতা লক্ষণীয়। প্রায় ১০০ পৃষ্ঠা ব্যাপী এই লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় প্রবন্ধ আকারে ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয়। এর ৫০ বছর বাদে এই লেখা বই আকারে প্রকাশ হয়। ৫০বছর বাদে প্রকাশ হলেও এই লেখার যে কোনো বিশেষ পরিমার্জনা সম্ভব হয় নি, তা লেখক প্রথমেই সুস্পষ্ঠ ভাবে বলেছেন। আর এর কারন হিসাবে বলেছে মেয়েদের ভাষার সাথে ছেলেদের ভাষার পার্থক্য হ্রাস। তাঁর মতে শিক্ষার প্রসার উচ্চতর সামাজিক শ্রেণীতে নারী-পুরুষ এর ভাষার পার্থক্য হ্রাস করে দিয়েছে, আর অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের সামাজিক শ্রেণীর মেয়েদের ভাষা ওপর গবেষণার সুযোগ তিনি পাননি। এছাড়া তিনি কাজের ভৌগলিক সীমানাও বইটির মুখবন্ধে উল্লেখ করে দিয়েছেন।

 

যদিও অধ্যাপক সেনের লেখায় মেয়েদের ভাষার সম্পর্কে সাধারণ ভাবে আলোচনার সীমাদ্ধতা সম্পর্কে একটা সচেতনতা লক্ষ করা যায়, এই লেখাতেও নারী-পুরুষ বিভাজনের কিছু চলতি ধারণাকে , চিরন্তন সত্য মেনে তার ভিত্তিতে নারী-পুরুষ  ভাষার পার্থক্য কে স্থাপন করা হয়েছে। এর কিছু উদাহরণ বইটির ভূমিকা থেকে পাওয়া যায়.

 

“মানবজাতির আদিতম  যুগ থেকেই নারীর এক নিজস্ব বিশেষ পরিমন্ডল বর্তমান।… এ কথা প্রতিটি দেশ এবং প্রতিটি জাতির ক্ষেত্রে সত্য।… … ভাষা সৃষ্টির আদি যুগ থেকেই নিশ্চই অন্তত কিছু পার্থক্য নারী ও পুরুষের কথায় বর্তমান ছিলো। … … … এই পার্থক্যের সৃষ্টি মনস্তত্ত্বে। নারী তার ঘর এবং সন্তান সন্ততি নিয়ে নিমগ্ন থাকেন এবং তিনি মূলত সাহসহীন (timid )এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কিন্তু পুরুষকে তার সংসারের জন্যে  খাদ্য আহরণ করতে বেরোতে হয়।  সে সাহসী এবং অগ্রসর হতে বাধ্য। এছাড়া পুরুষকে বেশি বিদেশী মানুষ ও ভাষার সংস্পর্শে আসন, নারীরের সে সুযোগ নেই।  এর ফলেই পশ্চাদপদ সমাজে  মেয়েদের ভাষার মধ্যে রক্ষশীলতা দেখা যায়”

 

এই উক্তিতে লক্ষণীয় যে শেষের উক্তিগুলিতে যে  মনস্তত্বের কথা অধ্যাপক সেন বলেছেন তা মূলত সমাজতত্ত্ব বা  সামাজিক মনস্তত্ত্ব, সমাজের বদলের সাথে তার পরিবর্তন অবসম্ভাবী। অন্যভাবে বলা যেতে পারে যে এই উক্তির শুরুর দিকে যে চিরন্তন নারী-পুরুষ ভাষা বিভাজনের কথা বলেছেন তা সমাজের বিভিন্ন বিষয়ের উপর শর্তাধীন এক সাময়িক ঘটনা ।

 

এইখানেই আমাদের প্রথম প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। গাল এবং আরভিন তাদের ১৯৯৫ এর রিসার্চ দেখিয়েছেন কি ভাবে ভাষাতাত্ত্বিকদের ভাষাগত মতাদর্শ কি ভাবে বিভিন্ন ভাষার সীমানা নির্ধারন করেছে। অর্থাৎ, ভাষাত্বাত্ত্বিকরা তাদের বিজ্ঞানিক অনুসন্ধান করতে গিয়ে তাদের আসলে তাদের নিজের ব্যক্তিগত, দৃঢ়প্রোথিত ধ্যানধারণাকেই ভাষাবিজ্ঞানের মোড়কে প্রতিষ্ঠা করেছেন।  এই সীমা নির্ধারণ কাজের ক্ষেত্রে ভাষাগত বৈশিষ্ট্য কম গুরুত্ত্বপূর্ন, বরং  ভাষাতাত্ত্বিকদের ‘এক ভাষা=এক সংস্কৃতি’  মতাদর্শের  ভূমিকা প্রধান। 

 

একই ভাবে ‘মেয়েদের ভাষা ‘ সম্পর্কিত আলোচনাগুলি  এক বিশেষ মতাদর্শের নির্মাণ। যে মতাদর্শ বিশ্বাস করে মেয়েদের ভাষা -সমাজ, শ্রেণী, পারিপার্শ্বিক  নির্বিশেষে -এক ধরনের আর তা সব  পুরুষদের ভাষার থেকে আলাদা। এই মতাদর্শ  ধরে নেয় যে “নারী “ বা “পুরুষ” দুটি সমমাত্রিক পরস্পর বিরোধী  বিভাগ। এই বিভাগগুলি যেমন জৈবিক, ঠিক একই ভাবে সামাজিক। তাদের ভাষা আলাদা হতেই হবে।  অপেক্ষা শুধু সেই পার্থক্য খোঁজার।  এই দুই বিভাগের মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ  বৈচিত্র আছে কি না তার বিশ্লেষণ এই তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে গুরুত্বহীন। এই মতাদর্শের প্রশ্ন করে না যে এই মিলের কারন কি ? এই পার্থক্যই বা কেন ?  এতে সমাজের ভূমিকা কি?

দ্বিতীয় প্রশ্ন :

মেয়েদের ভাষা আলাদা হওয়ার কারন কি?

 জেসপার্সনের ‘the woman” পরিচ্ছেদের প্রথেমেই এই পার্থক্যের উদারহরন দিতে গিয়ে তিনি উদাহরণ দিয়েছেন সংস্কৃত নাট্যের।  যেখানে পুরুষরা সংস্কৃতে আর মহিলারা প্রাকৃতে সংলাপ বলছেন। উদাহরণটি সম্পূর্ণ সমালোচনার উর্ধে নয় ।  সাধারণভাবে সংস্কৃত নাট্যে সংস্কৃতে সংলাপ বলেন রাজা ও ব্রাহ্মণ, যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অধিকার ছিলো।  প্রাকৃত বলেন নারী ও নিম্নবর্ণের পুরুষ, যাদের এই অধিকার ছিল না।  অর্থ্যাৎ পার্থক্যটা নারী-পুরুষের নয়, শিক্ষার আর বর্ণের।  একই কারণে অধ্যাপক সেন তার বইয়ের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন শিক্ষার সাথে এই প্রভেদ ক্রমে বিলুপ্ত হয়ে চলেছে।  তাহলে প্রশ্নটা থেকেই যায়, যা নারী-পুরুষের ভাষার প্রভেদ বলে আলোচনা হচ্ছে, তা কি সত্যিই নারী-পুরুষের প্রভেদ? তা কি শুধুই   না  তা শিক্ষার প্রভেদ, বর্ণের প্রভেদ বা অন্য কিছু? তাহলে মেয়েদের ভাষার আলোচনার মোড়কে কি তাহলে শিক্ষার ভাষা, বর্ণের ভাষা, সামাজিক স্তরের ভাষার আলোচনা হয়ে  চলেছে?

 

তৃতীয় প্রশ্ন

এবার শেষ প্রশ্নে আসি।  যা হলো ছেলেদের ভাষা নিয়ে গবেষণাপত্রের বিরলতা।

জেসপার্সন এর বই এর যে বিভাগে ‘the woman ‘ প্রচ্ছেদটি আছে সে বিভাগের (বিভাগটির  নাম book 3) অন্য প্রচ্ছেদগুলির নাম  দেখলে হয়তো এই রহস্য সমাধানের একটা সূত্র পাওয়া যাবে। অন্যান্য প্রচ্ছদ গুলির নাম –

 বিদেশী (The foreigner)

পিজিন ও মিশ্র ভাষা (the pigin and congeners )

ভাষা পরিবর্তনের কারণ (দুটি পরিচ্ছদ)

বলা যেতে পারে এই বিভাগের মূল লক্ষ “অপর” দের ভাষার আলোচনা। অর্থ্যাৎ, ছেলেদের ভাষা নিয়ে পৃথক আলোচনা নিষ্প্রোয়জন, কারন ছেলেদের ভাষাই হলো “আসল  ভাষা” বা ভাষা  হিসাবে মান্য। এর থেকে যে বিচ্যুতি তার জন্যেই আলাদা বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যেন উপভাষা বা মেয়েদের ভাষা।

 

 

এই প্রবন্ধ কিন্তু এমন কোনো দাবি করছে না যে মেয়েদের ভাষা সম্পর্কে আলোচনা করে নিষ্প্রয়াজন। বরং এই প্রবন্ধ মনে করে মেয়েদের ভাষা   ঠিক কি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়ন করেছেন তার পিছনে কি মতাদর্শগত ভিত্তি থাকছে তার ও প্রতি যথেষ্ঠ নজর দেয়ার প্রযোজন আছে।

 

সমাজ বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে আমরা আজ ‘নারী’ শব্দের জৈবিক এবং সামাজিক অর্থের পার্থক্য সম্বন্ধে সচেতন। জৈবিক অর্থে নারী ও পুরুষ দুটি ভিন্ন বিভাগ হিসাবে ধরা গেলেও, সামাজিক অর্থে তা নয়।  সামাজিক অর্থে ‘নারী’ বা ‘পুরুষ’ দুটি পরিবর্তনশীল, বহুমাত্রিক, প্রসঙ্গ নির্ভর ধারণা। দেশ, কাল, প্রসঙ্গ অনুযায়ীনারী-পুরুষ, মেয়ে-ছেলে  এই শব্দগুলির  অর্থ বিভিন্ন ভাবে উপলব্ধ হতে পারে। ‘মেয়েলি/ নারীসুলভ ’ বা ‘পুরুষালি’ বলতে কি বোঝায় এই প্রশ্ন যদি বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন সমাজের মানুষদের করেন, তার উত্তর গুলিতেই এই অর্থের বিভিন্নতা প্রকট হয়ে যাবে। ভাষা সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে স্বাভাবিক ভাবেই বহুমুখী।  কেবল মাত্র নারী আর পুরুষ হিসাবে তার পরিবর্তন হবে একথা মনে করার কোনো যুক্তি নেই। 

 

এই প্রসঙ্গে জাপানে হওয়া এক গবেষণার কথা বলে এই প্রবন্ধ শেষ করবো। জাপানি ভাষায় শব্দ বা বাক্যের শেষে বহু particle বা অব্যয় যুক্তির এক বিস্তারিত পদ্ধতি আছে । এই particle গুলি জাপানি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ঠ।  এই অব্যয় গুলি ভাষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন এবং তাদের কাজ বহু ধরনের,  তারা কখনো বাক্যের প্রসঙ্গ নির্ধারণ করে, কখনো বক্তার আবেগ না মনভাব প্রকাশ করে, এছাড়া আরো বিভিন্ন ব্যাকরণগত এবং ব্যাকরণ এর বাইরের কাজ এই অব্যয় গুলি করে । এর মধ্যে কোনো কোনো  অব্যয় পুরুষ এবং নারী অনুযায়ী নির্দিষ্ঠ।  যেমন ‘ওয়া (wa)’ অব্যয়টি নারীসূচক অব্যয় বলে ধরা হয়।  উদাহরণ ;

বোকু কেয়াএরু    (বক্তা পুরুষ )

ওয়াতাসি কেয়াএরু ওয়া   (বক্তা নারী )

উপরের দুটি বাক্যের বাংলা মানেই এক  ‘ আমি ফিরে যাবো’।

জাপানি ভাষায় ‘আমি’ শব্দ পুরুষ নারীর ক্ষেত্রে আলাদা। ছেলেদের ভাষায় বোকু, আর মেয়েদের ভাষায় ওয়াতাসি। মেয়েদের বাক্যের শেষে ওয়া  অব্যয়ের যুক্তি এখানে  উল্লেখ্য । অর্থ্যাৎ উপরের বাক্যদুটি দেখলে সহজেই বলে দেওয়া  যাবে যে দ্বিতীয় বাক্যটির বক্তা এক নারী, কারন তার বাক্য  শেষে ‘ওয়া ‘ অব্যয়  টি যুক্ত আছে।  সাধারণভাবে,  ওয়া  এবং জে (ze )  এই দুটি বাক্যের শেষে বসা অব্যয়কে  নারীসূচক এবং পুরুষসূচক অব্যয় হিসাবে ধারা হয়।

 

 কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে এই দুই জাপানি অব্যয়ের ব্যবহার আরো শুধু বক্তার লিঙ্গ ছাড়াও আরো অনেক কিছু প্রতিফলন করছে। তানাকো সোজি র ১৯৯৮ সালের প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি দেখান যে, কেবলমাত্র মেয়েদের মধ্যে যখন কথা হচ্ছে, তখন এই অব্যয়ের ব্যবহার প্রায় শুন্য। অর্থ্যাৎ তখন মেয়েরা ‘ওয়া’ ব্যবহার করছেন না অথবা কম ব্যবহার করছেন।   ছেলেরা যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলছে তখন পুরুষসূচক অব্যয়ের ব্যবহার তুলনামুলক বেশি। মিশ্র কথোপকথনে বা নারী-পরুষ কথোপকথনে এই পার্থক্য চলে যায়। তাহলে দেখা যাচ্ছে, অব্যয়ের সাথে বক্তার লিঙ্গের কোনো অতিসরল সমীকরণ করা অসম্ভব।  বরং কথাপকথনে অংশগ্রহনকারী, বক্তা ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তিরা  এই অব্যয়ের ব্যবহারকে অন্তত আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্য ভাবে বলা যায়, অব্যয় টি শুধু বক্তার লিঙ্গ নয়, শ্রোতার ও অন্যান্য যারা সেই কথোপকথনের সময় উপস্থিটি আছেন, তাদের ওপর ওপর ও নির্ভরশীল।  ওকস (১৯৯২) তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, নারী বা পুরুষ সূচক নয়, এই অব্যয়গুলি যথাক্রমে দ্বিধা এবং স্পষ্ঠতাসূচক। এই পার্থক্য কর্মক্ষেত্রে এই দুই অব্যয়ের ব্যবহার থেকে বিশেষ ভাবে প্রমাণিত। কিছু কর্মক্ষেত্রের কথোপকথনের দেখা যায়, নারী পুরুষ দুজনেই, ‘ জে ze’ বা তথাকথিত পুরুষসূচক অব্যয় ব্যবহার করছেন, সেইসব কর্মক্ষেত্র তাদের কর্মীদের ভাষায় দৃঢ়তা এবং স্পষ্ঠতা দাবি করে। আবার  কিছু অন্য কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষ দুজনেই তথাকথিত নারীসূচক  ‘ ওয়া ‘ অব্যয় ব্যবহার করছেন। এই ধরনের কর্মক্ষেত্র  বিনম্রতার বা বিনয়ের দাবি রাখে। কাজেই বারবারই দেখা যাচ্ছে তথাকথিত মেয়েদের ভাষা বলে যা প্রচলিত তা গভীর ও সুক্ষ বিশ্লেষণে শুধু মেয়েদের ভাষা হিসাবে ধরা যাচ্ছে না।

 

পরিশেষে বলা যায় মেয়েদের ভাষার আলোচনায় প্রশ্ন কেবল মাত্র এই তিনটি নয়।  সমাজতত্ত্বের আর বৈজ্ঞানিক চিন্তার অগ্রগতির সাথে মেয়েদের (বা ছেলেদের) ভাষার সম্মন্ধে প্ৰথাগত চিন্তাধারা পেরিয়ে , এই বিষয় সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান, আর জিজ্ঞাসা দুই-ই আরো গভীর, আরো মনোগ্রাহী, আরো তথ্যনির্ভর আর বাস্তবসম্মত হয়ে চলেছে। তাই ‘ মেয়েদের ভাষার বা উপভাষার’ খোঁজ করার আগে, আজকের ভাষাবিদদের নিজেদের গবেষণার বিষয় বস্তু সম্পর্কে গভীর ও স্পষ্ঠ বোধগম্যতা, প্রকৃত বর্ননা আর এই গবেষণায়  নিজেদের অন্তর্নিহিত মতাদর্শের  প্রভাব ও তার সীমাবদ্ধতার  সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।  নাহলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা আর ভিত্তিহীন, লঘু কৌতুকের মধ্যে সীমানাটি আবছা হতে হতে ক্রমে একেবারে অদৃশ্য  হয়ে  যেতে পারে।  

 

গ্রন্থপঞ্জি:

Jesperson. 1922 language

Ochs, Elinor 1992 indexing Gender in Language as an Interactive Phenomenon

Sen, Sukumar 1978 (first published 1928), Women’s Dialect In Bengali, Jijnasa, KolkataGal, Susan, and Judith T. Irvine. 1995. “The Boundaries of Language and Discipline: How Ideologies Construct Differences.” Social Research 62 (4): 967-1001.

Takano, shoji (1998) a quantitative study of gender differences in the ellipsis of the Japanese  postpositional particles –wa and –ga:  gender composition as a constraint on variability/ Language Variation and Change 10/289-323